নিজস্ব প্রতিবেদক,শিবালয়, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর সংলগ্ন যমুনা নদীতে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের গুরুত্বপূর্ণ টাওয়ারের আশপাশে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন চলায় জাতীয় গ্রিড অবকাঠামো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং সহস্রাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেখা যায়, আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অন্তত পাঁচটি ড্রেজার (সেকশন কাটার মেশিন) দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
উত্তোলিত বালু শতাধিক বাল্কহেডে লোড করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এ সময় নদীতে চলমান বালু উত্তোলন কার্যক্রমের আশপাশে কয়েকজন যুবককে পাহারারত অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বাধা দিতে গেলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। নিয়ম-নীতি ও আইন অমান্য করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ড্রেজার পরিচালনার ফলে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইতোমধ্যে নদীভাঙনে কৃষিজমি, বসতভিটা এবং একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঞ্চালন টাওয়ার, আলোকদিয়া চরের মুজিব কেল্লা, একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং স্থানীয় হাট-বাজারের বিভিন্ন স্থাপনা।
ভুক্তভোগী ছলিম উদ্দিন বলেন, “সাধারণত এ সময়ে নদীভাঙন কম থাকে। কিন্তু ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে পাড় ভাঙন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুক্তার হোসেন, মো. সিরাজুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের নিকটবর্তী এলাকা থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন।
এলাকাবাসী জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে তারা নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকরভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর এ অংশে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে জাতীয় গ্রিডের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা টাওয়ারের ভিত্তির নিচ থেকে মাটি সরে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আলোকদিয়া চরের বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের পাশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স।কাউকেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাজারো মানুষের বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
শিবালয়ের যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলন: ঝুঁকিতে জাতীয় গ্রিডের টাওয়ার, সহস্রাধিক বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
শিবালয়ের যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলন: ঝুঁকিতে জাতীয় গ্রিডের টাওয়ার, সহস্রাধিক বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক,শিবালয়, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর সংলগ্ন যমুনা নদীতে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের গুরুত্বপূর্ণ টাওয়ারের আশপাশে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন চলায় জাতীয় গ্রিড অবকাঠামো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং সহস্রাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেখা যায়, আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অন্তত পাঁচটি ড্রেজার (সেকশন কাটার মেশিন) দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু শতাধিক বাল্কহেডে লোড করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এ সময় নদীতে চলমান বালু উত্তোলন কার্যক্রমের আশপাশে কয়েকজন যুবককে পাহারারত অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বাধা দিতে গেলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
নিয়ম-নীতি ও আইন অমান্য করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ড্রেজার পরিচালনার ফলে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইতোমধ্যে নদীভাঙনে কৃষিজমি, বসতভিটা এবং একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঞ্চালন টাওয়ার, আলোকদিয়া চরের মুজিব কেল্লা, একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং স্থানীয় হাট-বাজারের বিভিন্ন স্থাপনা। ভুক্তভোগী ছলিম উদ্দিন বলেন, “সাধারণত এ সময়ে নদীভাঙন কম থাকে। কিন্তু ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে পাড় ভাঙন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুক্তার হোসেন, মো. সিরাজুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের নিকটবর্তী এলাকা থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন। এলাকাবাসী জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে তারা নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা
হয়েছে। তবে এখনো কার্যকরভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর এ অংশে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে জাতীয় গ্রিডের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা টাওয়ারের ভিত্তির নিচ থেকে মাটি সরে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আলোকদিয়া চরের বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের পাশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স।কাউকেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাজারো মানুষের বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত