শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই বিরোধীদলের উদ্দেশ্যই মানুষকে বিভ্রান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মে মাসে ৬২২ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গন্তব্য হতে চায় ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগে এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন জাইমা রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র
সারাবাংলা সাড়ে ৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভাসল খুলনা: অপরিকল্পিত ড্রেনেজের খেসারত দিচ্ছে নগরবাসী
logo

সাড়ে ৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভাসল খুলনা: অপরিকল্পিত ড্রেনেজের খেসারত দিচ্ছে নগরবাসী

মাত্র পৌনে পাঁচ ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টি, আর তাতেই যেন রূপকথার 'পানির রাজ্যে' পরিণত হলো শিল্পনগরী খুলনা। গতকাল বুধবার বিকালের পর থেকে শুরু হওয়া চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো শহর। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, এমনকি মানুষের শোবার ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও এখন হাঁটুপানি। বছরের প্রথম বড় বৃষ্টিতেই খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ড্রেনেজ ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উন্মোচিত হলো।

​মেঘের গর্জন, তারপরই ডুবল শহর
​বুধবার বিকেল থেকেই খুলনার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বৃষ্টি দ্রুতই রূপ নেয় মুষলধারে, যা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আর এই কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় নগরীর রয়েল মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, রূপসা, লবণচরা, খানজাহান আলী রোড, গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ী, নিরালা ও খালিশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থা তৈরি হয় বরাবরের মতোই রয়েল মোড় এলাকায়। রিকশা, সিএনজি, ইজিবাইক কিংবা মোটরসাইকেল—সব ধরনের যানবাহনই জলমগ্ন রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে পথচারীদের হাঁটু সমান নোংরা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।

​তিন দিকে নদী, তাও কেন এই কৃত্রিম বন্যা?
​খুলনা নগরীর তিন দিকেই নদী পরিবেষ্টিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে পানি জমে থাকার কোনো স্বাভাবিক কারণ নেই। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সুজন খুলনার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
​"পানি ড্রেনের ঢাল বেয়ে সরাসরি নদীতে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু ওপেন ড্রেনে ময়লা জমে থাকা, অপরিকল্পিত ও সরু ড্রেন নির্মাণ এবং রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বর্জ্য ড্রেনে ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সিটি কর্পোরেশনের চরম উদাসীনতা ও সঠিক তদারকির অভাবেই আজ নগরবাসীর এই দশা।"

​"ড্রেনের বেড উঁচু, বাড়ি নিচু"— কাঠগড়ায় বিগত সরকারের পরিকল্পনা
​জলাবদ্ধতার এই ভয়াবহতার পেছনে বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনাকে দায়ী করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি জানান, রূপসা নদীর পাম্প হাউজ বন্ধ থাকা এবং স্লুইস গেটগুলো অকেজো হয়ে পড়ার কারণে শহরের পানি নদীতে নামতে পারছে না।

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, ড্রেন সংস্কারের নামে ড্রেনের তলদেশ বা 'বেড' এতটাই উঁচু করা হয়েছে যে, মানুষের ঘরবাড়ি এখন ড্রেনের চেয়ে নিচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি ড্রেন দিয়ে নদীতে না গিয়ে উল্টো মানুষের ঘরে ঢুকছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নদীর জোয়ারের চাপ।

​মিলবে কি মুক্তি? প্রশাসনের আশ্বাস
​চলতি বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে জরুরি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
​বর্ষা মৌসুমে নতুন করে কোনো ড্রেনের কাজ করতে দেওয়া হবে না।
​বড় ড্রেনগুলোর ভেতরে থাকা সব ধরণের অস্থায়ী বাঁধ বা প্রতিবন্ধকতা দ্রুত খুলে দেওয়া হবে।

রূপসাসহ প্রধান প্রধান নিষ্কাশন পয়েন্টগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
​তবে সাময়িক এই মলম পট্টিতে খুলনাবাসী আর সন্তুষ্ট নয়। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি— দীর্ঘমেয়াদী 'মাস্টারপ্ল্যান' করে খুলনাকে এই চিরস্থায়ী অভিশাপ থেকে দ্রুত মুক্ত করা হোক।

খুঁজুন