শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য: তারেক রহমান বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই বিরোধীদলের উদ্দেশ্যই মানুষকে বিভ্রান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মে মাসে ৬২২ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গন্তব্য হতে চায় ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগে এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন জাইমা রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সারাবাংলা পাথর নেই রেলপথে ধীরগতিতে চলছে ট্রেন
logo

পাথর নেই রেলপথে ধীরগতিতে চলছে ট্রেন

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন এর ৫০০ গজ দক্ষিণ রেললাইনের দুই ধারে ও মধ্যে কোন প্রকার পাথর নেই। অন্য দিকে বেহাল গুরুত্বপূর্ণ লুপলাইগুলোও। ফলে একদিকে ট্রেনযাত্রা হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক। অন্যদিকে লুপলাইনগুলো মালবাহী ট্রেন অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটে ভারত থেকে পাথরসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে করে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

সৈয়দপুর প্রকৌশল (পথ) বিভাগ সূত্র জানায়, সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথের মোট ৫৪ কিলোমিটার সৈয়দপুর প্রকৌশল বিভাগের অধীনে রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুর অংশের ৭ কিলোমিটারের ৫০০ গজ লাইন জরাজীর্ণ। এ রেলপথেই বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী রুটে নিত্যদিন পাঁচটি আন্তঃনগর একটি মেইল ট্রেন চলাচল করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেশন সংলগ্ন রেলক্রসিং থেকে দক্ষিণে হাতিখানা রেলওয়ে ব্রিজ ও উত্তরে গোলাহাট কবরস্থান রেলওয়ে ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রেল সড়কে নামে মাত্র পাথর রয়েছে। নাট-বল্টু বা হুক ও স্লিপার মাটিতে ঢেকে গেছে। লুপলাইনগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। স্লিপার আটকানোর ক্লিপ উধাও হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় নাট-বল্টু কিংবা রেল লাইনেরই অস্তিত্ব নেই। খানিক গতি নিয়ে ট্রেন চললে জয়েন্ট পয়েন্টগুলো ফাঁক হয়ে যায়। এসব লাইন মেরামত না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সৈয়দপুর ডাকঘর সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকার ফল বিক্রেতা সোলেমান বলেন, রেললাইনে পাথর নেই বললেই চলে। অনেক পয়েন্টে ক্লিপ নেই। ফলে ট্রেন চলার সময় বিকট শব্দে আতঙ্ক তৈরি হয়।
সৈয়দপুর থেকে ঢাকা রুটে নিয়মিত চলাচলকারী ট্রেনযাত্রী রেজা মাহমুদ বলেন, যাত্রায় নিরাপদ মনে করে ট্রেনই বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু এ রেলপথে অনেক স্লিপার ভাঙাচোরা। পাথরের বালাই নেই কোথাও কোথাও। ফলে এ পথে অনেক স্থানে হেলেদুলে ট্রেন চলে। কখন বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে সেই দুশ্চিন্তা নিয়ে যাত্রা করতে হয় আমাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমদানিকারক বলেন, লুপলাইনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় গতদিনে মালবাহী ট্রেনের প্রায় লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। লাইনগুলো ওয়াগন প্রবেশের অনুপযোগী হিসেবে ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তাই পাথর আমদানি করতে পারছি না। কবে নাগাদ সংস্কার করা হবে তা বলতে পারছেন না তারা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবায়দুল ইসলাম রতন জানান, সৈয়দপুর অংশে রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে বাজার ও বসতি। তাই রেললাইনে পাথর থাকে না। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনে পাথর না দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার থেকে রেলপথে পাথর দেয়া শুরু হয়েছে। 
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ জানান, রেলওয়ে বিভাগ লাইনগুলো সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহবান করেছে। আশা করা হচ্ছে আগামী অল্প দিনের মধ্যেই লাইনগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে। যেসব স্থানে পাথর নেই, সেসব স্থানে পাথরও দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

খুঁজুন