ঘোষণা ছিল বেকিং পাউডারের, কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় বের হয়ে আসে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় দামি শাড়ি, থ্রিপিস আর প্রসাধনী। বড় অঙ্কের এই শুল্ক ফাঁকি ধরে ফেলার পর পণ্যগুলো রাখা হয়েছিল বেনাপোল স্থলবন্দরের ‘সুরক্ষিত’ ৩৭ নম্বর শেডে। কিন্তু কোরবানি ঈদের ছুটির সুযোগে সেই কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেঙেই ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড!
বন্দরের জিম্মায় থাকা কোটি কোটি টাকার দামি ভারতীয় পণ্য রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। আর জালিয়াতি ঢাকতে সেই জায়গায় রেখে দেওয়া হয়েছে অতি নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রিপিস ও কাপড়।
কাস্টমসের নিশানায় ভেতরের ‘কালো হাত’
কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্পষ্ট ধারণা, বন্দরের ভেতরে থাকা কোনো চক্রের সরাসরি সহযোগিতা ছাড়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এমন দুঃসাহসিক চুরি ও জালিয়াতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, উধাও হওয়া ভারতীয় পণ্যের বদলে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বাংলাদেশি বসুন্ধরা ও মেঘনা শিল্প গ্রুপের কার্টনে ভরা ছিল। এমনকি দেশের বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তা ও দেশীয় সংবাদপত্রে মোড়ানো ছিল পণ্যগুলো।
"আলামত প্রমাণ করে, ভারতীয় পণ্যগুলো সরিয়ে দেশের ভেতর থেকেই এই নিম্নমানের পণ্যগুলো বন্দরের শেডে ঢুকানো হয়েছে।"— মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান, কমিশনার, বেনাপোল কাস্টমস হাউস।
ইতিমধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির দায় সঁপে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব পরিশোধের চূড়ান্ত নোটিশ (চরমপত্র) দিয়েছে কাস্টমস।
পর্দার আড়ালে যে চালান
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ ভারত থেকে এই চালানটি আমদানি করে। সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে এর দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের ‘মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ’। কাস্টমসের হিসাবে, এই চালানের মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
অ্যাকশনে বন্দর কর্তৃপক্ষ: তদন্ত কমিটি গঠন
এ ঘটনায় বন্দরজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্র্যাফিক) মোঃ শামীম হোসেন জানিয়েছেন:
৩৭ নম্বর শেডের ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজালালকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বন্দরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই ‘ভেঁপো’ কারা, তা তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোলে সিনেমার গল্পকেও হার মানানো জালিয়াতি: জব্দ করা কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য উধাও, বদলে গেল দেশীয় পোশাকে
বেনাপোলে সিনেমার গল্পকেও হার মানানো জালিয়াতি: জব্দ করা কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য উধাও, বদলে গেল দেশীয় পোশাকে
ঘোষণা ছিল বেকিং পাউডারের, কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় বের হয়ে আসে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় দামি শাড়ি, থ্রিপিস আর প্রসাধনী। বড় অঙ্কের এই শুল্ক ফাঁকি ধরে ফেলার পর পণ্যগুলো রাখা হয়েছিল বেনাপোল স্থলবন্দরের ‘সুরক্ষিত’ ৩৭ নম্বর শেডে। কিন্তু কোরবানি ঈদের ছুটির সুযোগে সেই কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেঙেই ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড! বন্দরের জিম্মায় থাকা কোটি কোটি টাকার দামি ভারতীয় পণ্য রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। আর জালিয়াতি ঢাকতে সেই জায়গায় রেখে দেওয়া হয়েছে অতি নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রিপিস ও কাপড়। কাস্টমসের নিশানায় ভেতরের ‘কালো হাত’কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্পষ্ট ধারণা, বন্দরের ভেতরে থাকা কোনো চক্রের সরাসরি সহযোগিতা ছাড়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এমন দুঃসাহসিক চুরি ও জালিয়াতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
কারণ, উধাও হওয়া ভারতীয় পণ্যের বদলে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বাংলাদেশি বসুন্ধরা ও মেঘনা শিল্প গ্রুপের কার্টনে ভরা ছিল। এমনকি দেশের বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তা ও দেশীয় সংবাদপত্রে মোড়ানো ছিল পণ্যগুলো। "আলামত প্রমাণ করে, ভারতীয় পণ্যগুলো সরিয়ে দেশের ভেতর থেকেই এই নিম্নমানের পণ্যগুলো বন্দরের শেডে ঢুকানো হয়েছে।"— মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান, কমিশনার, বেনাপোল কাস্টমস হাউস। ইতিমধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির দায় সঁপে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব পরিশোধের চূড়ান্ত নোটিশ (চরমপত্র) দিয়েছে কাস্টমস। পর্দার আড়ালে যে চালানকাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ ভারত থেকে এই চালানটি আমদানি করে। সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে এর দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের ‘মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ’। কাস্টমসের
হিসাবে, এই চালানের মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। অ্যাকশনে বন্দর কর্তৃপক্ষ: তদন্ত কমিটি গঠনএ ঘটনায় বন্দরজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্র্যাফিক) মোঃ শামীম হোসেন জানিয়েছেন:৩৭ নম্বর শেডের ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজালালকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই ‘ভেঁপো’ কারা, তা তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত