শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
জাতীয় পরিকল্পনা থেকে স্থানীয় উন্নয়ন ধারনায় পাবনায় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত বুটেক্সের ৪১ থেকে ৪৭তম ব্যাচ নিয়ে জিজি প্যানেলের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা যমুনার অবৈধ বালু মাফিয়া চক্র কি প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে? প্রশ্ন আলোকদিয়াবাসীর বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য: তারেক রহমান বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই বিরোধীদলের উদ্দেশ্যই মানুষকে বিভ্রান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মে মাসে ৬২২ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গন্তব্য হতে চায় ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগে এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন জাইমা রহমান
সারাবাংলা পাঠদান ব্যাহত:উলিপুরে প্রাথমিকের ১ শত ১২ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য
logo

পাঠদান ব্যাহত:উলিপুরে প্রাথমিকের ১ শত ১২ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ২ শত ৬৭ টি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১ শত ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য  বিদ্যালয়গুলোতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়াও অত্র উপজেলায় ১৪৩টি সহকারী শিক্ষকের পদসহ ৬ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদও শুন্য রয়েছে।বিশেষকরে চরাঞ্চলের ৩৬টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক না থাকায় দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো ১ জন অথবা ২ জন শিক্ষক দিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয় বছরের পর বছর।

এরই মধ্যে শিক্ষক শুন্য হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, মশালের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একজন শিক্ষক ছিলেন সেখানে অতি সম্প্রতি তার বিসিএস ক্যাডারে প্রানী সম্পদ বিভাগে চাকুরী হওয়ায় আবারও স্কুলটি শিক্ষক শুন্য হয়ে পড়েছে।এতে করে পাঠদান কার্যক্রমে অচল অবস্থা বিরাজ করছে সেখানে।

বিশেষ করে বর্ষাকালসহ বছরের অধিকাংশ সময় চরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস হয় না। বছরের দীর্ঘসময় চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো  বন্ধ থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

প্রাথমিকের একটি সূত্র জানায়, চরের বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস না হলেও পরীক্ষায় তাদের পাস করাতে হয়। ফলে চরের শিক্ষার্থীরা প্রাইমারী পাশ করলেও মাধ্যমিকে ভর্তি হতে না পেরে ঝড়ে পড়ে।

‎উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে,২৬৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে কর্মরত আছেন ১৫৫ জন, শুন্য পদের সংখ্যা ১১২। সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে, ১ হাজার ৪ শত ৫৭টি। সে জায়গায় কর্মরত আছেন, ১ হাজার ৩৩০ জন, শুন্য পদ ১৪৩।

অত্র উপজেলায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ রয়েছে ৯টি, কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। ৬টি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শুন্য।

উপজেলায় মোট ভর্ত্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪২২ জন।তিস্তা ও ব্রম্মপুত্র নদী বেষ্ঠিত উপজেলার বেগমগন্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি চরে অবস্থিত ৩৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক যুগ ধরে প্রধান শিক্ষক ও অধিকাংশ সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে।

একাধিক ‎অবিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, চরের স্কুল গুলোতে দুইয়ের অধিক শিক্ষক থাকলেও একজন কিংবা  দুইজন শিক্ষক দিয়েই চলে। তারাও অনেক সময় আসেন না, ফলে বন্ধ থাকে বিদ্যালয়।

চরের বিদ্যালয়গুলো চলছে কিনা তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের তেমন কোন মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে। চরের বিদ্যালয়গুলোতে কেউ যেতে চায় না, তাই এ দুরাবস্থা বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ছাড়াই একজন অথবা দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে, দই খাওয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিন হাজারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বাঘুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বেগম নুরনাহার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর গুজিমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,মেকুরের আলগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,গুচ্ছ গ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সাহেবের আলগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বালাডোবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুখের বাতীর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খুদির কুঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৩৬টি বিদ্যালয়।

সুখের বাতীর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক ( ভার:) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান,তার স্কুল ভবন দুই বছর আগে নদীতে ভেঙ্গে গেছে, পাশের এক ব্যক্তির বাড়ীতে ভাড়া দিয়ে কোন রকমে স্কুল চালাচ্ছি। তিনি কুড়িগ্রামে থাকেন, প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব হয় না।

তবে সপ্তাহে দুই দিন যান। বাকী দিন তার নিজস্ব বদলি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালু রেখেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ভাবে শিক্ষদান করা সম্ভব নয়।

‎মশালের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন,তিনি শিক্ষক শুন্য স্কুলটিতে বিগত ২০২৪ সালে যোগদান করেন। তার পর থেকে তিনি একাই স্কুল চালাচ্ছেন। ৬ পদের স্কুলটিতে ১১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ৪৪তম বিসিএসএ তার চাকুরী হওয়ায় তিনি ইস্তোফা দিয়েছেন। বর্তমানে স্কুলটি শিক্ষক শুন্য।

‎সুখের বাতীর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুস ছবুর বলেন, শিক্ষক সংকটের কারনে চরে স্কুল গুলো প্রায় বন্ধ থাকে, মাঝে মধ্যে খোলে কিন্ত ক্লাস হয় না। তার উপর নজরদারী না থাকায় চরের পাঠদান কার্যক্রম একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে।

‎উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা(চলতি দায়িত্ব) মোছাঃ নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, শিক্ষক সংকট,সঠিক সময় শিক্ষক উপস্থিতি, সর্বপরী শিক্ষকদের  আন্তরিকতা না থাকা এবং কারিকুলাম মোতাবেক পাঠদান না করায়,পাঠদান কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। কমেছে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হারও ।

‎সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় নজরদারীতেও ঘাটতি রয়েছে। তিনি যোগদানের পর থেকে শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থী উপস্থিতির উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন