চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে হাত গুনে বাকি আর মাত্র চার দিন। অথচ খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার মুজারঘোটা-বটবেড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কালভার্টটির দিকে তাকালে বোঝার উপায় নেই যে এটি হস্তান্তরের সময় হয়েছে।
প্রায় ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মূল কাঠামো তিন বছর আগে দৃশ্যমান হলেও দু’পাশের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) এখনও অসম্পূর্ণ। ফলে চার ইউনিয়নের লাখো মানুষের স্বপ্নের কালভার্টটি এখন এলাকার অন্যতম বড় ‘দুর্ভোগের ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় এলজিইডির এই প্রকল্পটির কাজ শেষ করে আগামী ১০ জুনের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু কাজের বর্তমান যে দশা, তাতে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চার ইউনিয়ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই সড়কটি ডুমুরিয়া উপজেলার ২ নম্বর রঘুনাথপুর, ১ নম্বর ধামালিয়া, ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী ফুলতলা উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও প্রসূতি মায়েদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
এলাকার সমাজসেবক ডা. অনুপম মল্লিক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,
"সামনে বর্ষা মৌসুম। এর আগে যদি কালভার্টটির সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হয়, তবে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের আর সীমা থাকবে না। পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।"
১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমারেশ মণ্ডলও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে কাজটি এভাবে অসম্পূর্ণ ফেলে রাখা হয়েছে। মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।"
কাজের অগ্রগতি নিয়ে চাপানউতোর
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আলী ট্রেডার্স’-এর প্রতিনিধি মোঃ মিরান হোসেনের দাবি, "আমরা ১০ জুনের মধ্যেই কালভার্টের দু’পাশের সংযোগ সড়কে মাটি বা বালি ফেলে তা চলাচলের উপযোগী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।" তবে স্থানীয়রা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে জোড়াতালির কাজ দেওয়া হলে তা টেকসই হবে না।
এদিকে কালভার্টটির সর্বশেষ পরিস্থিতি ও নথিপত্র সংক্রান্ত তথ্য জানতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোষাধ্যক্ষ সমীর কুণ্ডু সাংবাদিকদের সাথে ক্ষুব্ধ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আতাউল গণি মিনজু বিষয়টি নিয়ে জানান,
"ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সময় যেহেতু খুবই কম, তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন জনদুর্ভোগ লাঘব হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।"
মেয়াদ শেষের এই অন্তিম মুহূর্তে এসে প্রশাসন ও ঠিকাদারের 'দ্রুত কাজ শেষের' আশ্বাস আদতে কতটা বাস্তবায়িত হয়, নাকি আসন্ন বর্ষায় মুজারঘোটা-বটবেড়াবাসীর দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হয়—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মেয়াদের বাকি মাত্র ৪ দিন, সংযোগ সড়ক ছাড়াই ঝুলছে ডুমুরিয়ার ৩৩ লাখ টাকার কালভার্ট!
মেয়াদের বাকি মাত্র ৪ দিন, সংযোগ সড়ক ছাড়াই ঝুলছে ডুমুরিয়ার ৩৩ লাখ টাকার কালভার্ট!
চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে হাত গুনে বাকি আর মাত্র চার দিন। অথচ খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার মুজারঘোটা-বটবেড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কালভার্টটির দিকে তাকালে বোঝার উপায় নেই যে এটি হস্তান্তরের সময় হয়েছে। প্রায় ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মূল কাঠামো তিন বছর আগে দৃশ্যমান হলেও দু’পাশের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) এখনও অসম্পূর্ণ। ফলে চার ইউনিয়নের লাখো মানুষের স্বপ্নের কালভার্টটি এখন এলাকার অন্যতম বড় ‘দুর্ভোগের ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। স্থানীয় এলজিইডির এই প্রকল্পটির কাজ শেষ করে আগামী ১০ জুনের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু কাজের বর্তমান যে দশা, তাতে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চার ইউনিয়নস্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই সড়কটি ডুমুরিয়া উপজেলার ২ নম্বর রঘুনাথপুর, ১ নম্বর ধামালিয়া, ১২ নম্বর রংপুর
ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী ফুলতলা উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও প্রসূতি মায়েদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এলাকার সমাজসেবক ডা. অনুপম মল্লিক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,"সামনে বর্ষা মৌসুম। এর আগে যদি কালভার্টটির সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হয়, তবে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের আর সীমা থাকবে না। পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।" ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমারেশ মণ্ডলও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে কাজটি এভাবে অসম্পূর্ণ ফেলে রাখা হয়েছে। মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।" কাজের অগ্রগতি নিয়ে চাপানউতোরনির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আলী ট্রেডার্স’-এর প্রতিনিধি মোঃ মিরান হোসেনের দাবি, "আমরা ১০ জুনের মধ্যেই কালভার্টের দু’পাশের সংযোগ সড়কে মাটি বা বালি ফেলে তা
চলাচলের উপযোগী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।" তবে স্থানীয়রা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে জোড়াতালির কাজ দেওয়া হলে তা টেকসই হবে না। এদিকে কালভার্টটির সর্বশেষ পরিস্থিতি ও নথিপত্র সংক্রান্ত তথ্য জানতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোষাধ্যক্ষ সমীর কুণ্ডু সাংবাদিকদের সাথে ক্ষুব্ধ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।তবে উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আতাউল গণি মিনজু বিষয়টি নিয়ে জানান, "ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সময় যেহেতু খুবই কম, তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন জনদুর্ভোগ লাঘব হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।" মেয়াদ শেষের এই অন্তিম মুহূর্তে এসে প্রশাসন ও ঠিকাদারের 'দ্রুত কাজ শেষের' আশ্বাস আদতে কতটা বাস্তবায়িত হয়, নাকি আসন্ন বর্ষায় মুজারঘোটা-বটবেড়াবাসীর দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হয়—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত