শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য: তারেক রহমান বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই বিরোধীদলের উদ্দেশ্যই মানুষকে বিভ্রান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মে মাসে ৬২২ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গন্তব্য হতে চায় ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগে এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন জাইমা রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয় মেগা বাজেটে স্বস্তির হাওয়া নাকি করের বোঝা? জেনে নিন কীসের দাম কমছে, কীসের বাড়ছে
logo

মেগা বাজেটে স্বস্তির হাওয়া নাকি করের বোঝা? জেনে নিন কীসের দাম কমছে, কীসের বাড়ছে

আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এটিই প্রথম বাজেট, যা পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে যেমন থাকছে দেশীয় শিল্পকে চাঙ্গা করার মেগা পরিকল্পনা, তেমনি রাজস্ব বাড়াতে বিলাসী পণ্যের ওপর বসছে করের কোপ।

আসন্ন বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে যাচ্ছে—মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে আটকে রাখা এবং সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) এই বাজেটে কোন কোন পণ্যে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে, আর কোন কোন পণ্যে পকেট কাটবে বেশি, দেখে নেওয়া যাক একনজরে:

পকেটে স্বস্তি: দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের
​বাজারের উত্তাপ কমাতে এবং দেশীয় শিল্পকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে কর ও ভ্যাটে বড় ছাড়ের রূপরেখা নেওয়া হয়েছে। ফলে নিম্নোক্ত খাতগুলোতে দাম কমার সুসংবাদ মিলতে পারে: নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য: চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ৫% থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫% করা হচ্ছে। প্রত্যাহার হচ্ছে রেগুলেটরি ডিউটিও।

ভোজ্যতেল: দেশীয় তৈলবীজ থেকে তেল উৎপাদনে আগামী ১০ বছরের জন্য শূন্য শতাংশ কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে খাঁটি সরিষার তেলের দাম কমতে পারে।
​মোবাইল ও ইন্টারনেট: মোবাইল সিমের ওপর থাকা ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ বাতিল হচ্ছে। কাঁচামালের কর কমায় দেশে তৈরি ফোনের দাম কমবে এবং ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সেবায় উৎসে কর ১২% থেকে কমে ১০% হচ্ছে।

চিকিৎসা ও ওষুধ: কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের আগাম কর প্রত্যাহার হচ্ছে, যাতে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ কমবে প্রায় ৬০০ টাকা। হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ১০% ভ্যাট প্রত্যাহার হচ্ছে। এছাড়া ক্যানসারসহ ওষুধ শিল্পের ৭৭টি কাঁচামালে শুল্ক ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি: সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক ও চার্জিং স্টেশনের উৎসে কর ৫% থেকে শূন্য এবং ই-গাড়ির নিবন্ধন কর ২ লাখ থেকে কমিয়ে ১ লাখ টাকা করা হচ্ছে।
​স্বর্ণ ও ইলেকট্রনিক্স: স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫% থেকে কমে ০.৫% হচ্ছে। ফ্রিজ, টিভি ও কম্পিউটারের কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল থাকছে এবং মনিটর ও প্রিন্টারের আগাম কর কমছে।

​অন্যান্য: সার ও কীটনাশকের সাড়ে ৭% ভ্যাট-কর প্রত্যাহার হচ্ছে। এছাড়া বাদ্যযন্ত্র, প্যাকেজিং এবং রিসাইকেলড পণ্যের দামও কমতে পারে।

​পকেটে কোপ: দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের
​সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিশাল এই লক্ষ্য পূরণ এবং বিলাসী পণ্যের লাগাম টানতে বেশ কিছু খাতে করের হার বাড়ানো হচ্ছে: তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য: ধূমপায়ীদের খরচ বেশ ভালোই বাড়ছে। সিগারেটের ফিল্টারের কাঁচামালে ৩০০% এবং নিকোটিনে ৩৫০% সম্পূরক শুল্ক বসছে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকা হতে পারে।

বিলাসী ও আমদানি পণ্য: বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসী সামগ্রী ও উচ্চমূল্যের আমদানি করা খাদ্যে নতুন করে ২০% ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।

​রড ও নির্মাণ সামগ্রী: বাড়ি নির্মাণের খরচ বাড়ছে। দেশে উৎপাদিত মাইল্ড স্টিল (এমএস) বা রডের ওপর সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট প্রায় ১০% বাড়ানো হচ্ছে।
​অ্যালকোহল: দেশে উৎপাদিত মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা নতুন ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব আসছে।

কাজুবাদাম ও হিমায়িত মাছ: কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ৫% থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ২৫% করা হচ্ছে। এছাড়া উচ্চ মূল্যের আমদানিকৃত হিমায়িত মাছে ১৫% মূসক বা ভ্যাট বসছে।

এক নজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কাঠামো:
​বাজেটের আকার: ৯,৩৮,০০০ কোটি টাকা।
​রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা: ৬,৯৫,০০০ কোটি টাকা।
​বাজেট ঘাটতি: ২,৪৩,০০০ কোটি টাকা।
​এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি): ৩,০০,০০০ কোটি টাকা।

দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর এই মিশ্র সমীকরণের বাজেটটি পাস হলে এটি হবে বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।

খুঁজুন