শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
সড়ক দুর্ঘটনায় মে মাসে ৬২২ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গন্তব্য হতে চায় ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগে এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন জাইমা রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত নবীনগর শিবপুরে সুর সম্রাট আলাউদ্দিনখাঁ ডিগ্রী কলেজ শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা
ফুটবল বয়স শুধু একটি সংখ্যা: ক্রীড়া বিজ্ঞান ও ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘অভিজ্ঞদের’ জয়গান
logo

বয়স শুধু একটি সংখ্যা: ক্রীড়া বিজ্ঞান ও ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘অভিজ্ঞদের’ জয়গান

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যখন মাঠে নেমেছিলেন, তখন মার্কিন ডিফেন্ডার টিম রিমের বয়স ৩৫। মনে মনে ভেবেছিলেন, এটাই হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে হাল ছাড়েননি এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। নিজের শারীরিক ও মানসিক সীমাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ৪ বছর পর আজ তিনি ইতিহাস। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড থাকছে তার হাতে। ৩৮ বছর বয়সে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মাঠের খেলোয়াড় (Outfield Player) হিসেবে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ মাতাবেন তিনি। রিমের ভাষায়, এটি তার জীবনের অন্যতম সেরা সম্মান।

তবে গল্পটা শুধু রিমের একার নয়। এবারের বিশ্বকাপে বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাঠ কাঁপাতে আসছেন একঝাঁক মহাতারকা। ৪১ বছরেও পর্তুগালের জার্সিতে অপ্রতিরোধ্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ৪০ ছুঁইছুঁই বয়সে ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমাঠের কান্ডারি লুকা মদরিচ, বসনিয়ার এডিন জেকো, জাপানের ইউতো নাগাতোমো এবং চলতি মাসেই ৩৯-এ পা দিতে যাওয়া আর্জেন্টিনার ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসি—সবাই যেন প্রমাণ করছেন, ফুটবল মাঠে অভিজ্ঞতার দাম এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

বিজ্ঞানের ছোঁয়া ও বদলে যাওয়া ফুটবল
গবেষণা বলে, একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা ৩০ বছরের আগেই ফুরিয়ে আসে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমে যায় গতি, পেশির শক্তি এবং চোট থেকে সেরে ওঠার ক্ষমতা। অথচ আধুনিক ফুটবল আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতির এবং ম্যাচ ডট কমের ব্যস্ত সূচিতে ঠাসা।

এই কঠিন সমীকরণকে সহজ করে দিয়েছে আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞান। বর্তমানে ফুটবলারদের হৃদস্পন্দনের ওঠানামা, পেশির অক্সিজেন গ্রহণ, হরমোনের মাত্রা এমনকি শরীরের ভেতরের সূক্ষ্ম প্রদাহও (Inflammation) প্রযুক্তির সাহায্যে নিয়মিত ট্র্যাক করা হয়। ফলে চোট পাওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া সম্ভব হচ্ছে।

​শুধু প্রযুক্তি নয়, আসল রহস্য জীবনযাপনে
লুকা মদরিচের ব্যক্তিগত ট্রেইনার এবং জাগরেব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্লাতকো ভুচেতিচ অবশ্য মনে করেন, এর পেছনে প্রযুক্তির চেয়ে মানুষের ইচ্ছাশক্তি বেশি কাজ করে। তিনি বলেন, “এটি শুধু বিজ্ঞান বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয় নয়, শেষ পর্যন্ত এটি মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।”

গতি কমে গেলেও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা মাঠের ঘাটতি পূরণ করছেন তাদের প্রখর ফুটবল বুদ্ধি, নিখুঁত পজিশনিং এবং দূরদৃষ্টি দিয়ে। টিম রিমের মতে, বয়স বাড়ার কারণে তিনি এখন মাঠের পরিস্থিতি তরুণদের চেয়ে দ্রুত বুঝতে পারেন।

পর্দার পেছনের ত্যাগ
শীর্ষ পর্যায়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকার মূল মন্ত্র হলো চরম শৃঙ্খলা। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, হাইড্রেশন এবং উন্নত থেরাপির (যেমন: লাইট থেরাপি) মাধ্যমে শরীরকে সতেজ রাখছেন এই তারকারা।

তবে রিমের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘ সময় পরিবার ও তিন সন্তানকে ছেড়ে দূরে থাকা। তারপরও তিনি খেলছেন সন্তানদের এক অনন্য বার্তা দিতে। রিম বলেন, “আমি চাই আমার সন্তানেরা দেখুক—একটি লক্ষ্য স্থির করে কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে কীভাবে তা সফল করা যায়।”

প্রযুক্তির উন্নয়ন হয়তো ভবিষ্যতে ফুটবলারদের ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘ করবে, তবে টিম রিমের মতো যোদ্ধারা মনে করিয়ে দেন—দিনশেষে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাস আর ফুটবলারদের বুকের ভেতরের সেই চিরসবুজ ফুটবলপ্রেম।

খুঁজুন