শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
জাতীয় পরিকল্পনা থেকে স্থানীয় উন্নয়ন ধারনায় পাবনায় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত বুটেক্সের ৪১ থেকে ৪৭তম ব্যাচ নিয়ে জিজি প্যানেলের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা যমুনার অবৈধ বালু মাফিয়া চক্র কি প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে? প্রশ্ন আলোকদিয়াবাসীর বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য: তারেক রহমান বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই বিরোধীদলের উদ্দেশ্যই মানুষকে বিভ্রান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মে মাসে ৬২২ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গন্তব্য হতে চায় ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগে এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন জাইমা রহমান
সারাবাংলা ৬ দফা দাবিতে খুমেক হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: রোগীদের ভোগান্তি চরমে, অনড় চিকিৎসকেরা
logo

৬ দফা দাবিতে খুমেক হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: রোগীদের ভোগান্তি চরমে, অনড় চিকিৎসকেরা

চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত বিভিন্ন অসঙ্গতি দূরীকরণের দাবিতে উত্তাল খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল। সুনির্দিষ্ট ৬ দফা দাবিতে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং বেসরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসা সেবা। বিশেষ করে মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডে চরম চিকিৎসক সংকটে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীরা।

​বিক্ষোভ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
​রবিবার (৭ জুন) দুপুর ১২টায় খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ৩ শতাধিক চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন।
​ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ শেখ আল আমিন-এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. তৌফিক হাসান, ডা. হাফিজুল হক, ডা. সানজিদা আফরোজসহ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সভাপতি স্পষ্ট জানান, এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত সরকারের কিছু ভুল নীতি সংশোধনসহ ৬ দফা দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। গত কয়েকদিনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সমাধান না আসায় বাধ্য হয়ে তারা আজ বিকেল ৩টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন।

​বিকালে এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন শতাধিক বেসরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেইনি চিকিৎসক। তারাও ইন্টার্নদের সাথে সুর মিলিয়ে কর্মবিরতি ঘোষণা করেন।
​ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ: 'ডাক্তার খাইতে গেছে, আন্দোলন চলতেছে'
​এদিকে চিকিৎসকদের এই আকস্মিক কর্মবিরতিতে হাসপাতালের মেডিসিন ও সার্জারি ওয়ার্ডগুলোতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। নতুন রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি সেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক মাঠে নেই। হাতেগোনা কয়েকজন সহকারী রেজিস্ট্রার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

​বাগেরহাট থেকে আসা শ্বাসকষ্টের রোগী ইলিয়াস মোল্লা ক্ষোভ ও আর্তনাদ নিয়ে বলেন, "মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর অনেকক্ষণ কোনো সেবা পাইনি। বলছে আন্দোলন চলতেছে, আর যে ডাক্তার আছে সেও খাইতে গেছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি।" পরে অবশ্য ডা. নাজিমুদ্দিন নামে একজন চিকিৎসক তাকে দেখতে আসেন। ইলিয়াস মোল্লার মতো শত শত সাধারণ ও মুমূর্ষু রোগী এখন হাসপাতালের বারান্দায় প্রহর গুনছেন একটু চিকিৎসার আশায়।

​পরিচালকের অবস্থান: 'রোগীদের কষ্ট দিয়ে কোনো আন্দোলন নয়'
​হাসপাতালের এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, "ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অনেক দাবিই যৌক্তিক। কিন্তু হাসপাতালের রোগীদের সেবা বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কর্মসূচির সাথে আমি একমত নই। আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাও সাফ মনে করিয়ে দিয়েছি যেন রোগীদের কষ্ট দিয়ে কোনো আন্দোলন না করা হয়।"

চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট ৬ দফা দাবিগুলো হলো:
​১. এফসিপিএস ট্রেইনিং সংক্রান্ত জটিলতা: স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে গৃহীত বিতর্কিত সিদ্ধান্তসমূহ (স্মারক নং- ৩৬৬) আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করতে হবে।
২. নিরাপত্তা আইন: স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বেতন বৈষম্য দূরীকরণ: সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় ইন্টার্ন ডাক্তারদের বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৯ম গ্রেডের সমমান করতে হবে।

৪. বিসিএস বয়সসীমা: বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করতে হবে।

৫. ভুয়া ডাক্তার প্রতিরোধ: বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশকে খসড়া আইনে রূপান্তর করে অবৈধ ও ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. পরীক্ষা ফি হ্রাস: বিসিপিএস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনড় থাকায়, হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দ্রুতই সরকার ও চিকিৎসক সংগঠনগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের মানবিক সমাধান আসবে।

খুঁজুন